আশরাফ খান কিরণ ষ্টাফ রিপোর্টার ।। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আজ ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছর পূর্ণ করছে । ১৯৭৮ সালের এই দিনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে শুরু করা দলটি দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় কখনো রাষ্ট্রক্ষমতায়, কখনো প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় থেকেছে। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরতার ধারণাকে সামনে রেখে দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন কর্মসূচিতে ছিল ১৯ দফা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দলটির নেতৃত্বে ছিলেন জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। দীর্ঘদিন বিরোধী রাজনীতিতে থাকার পর দলটির সামনে সরকার পরিচালনার পাশাপাশি সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণ, জনগণের আস্থা ধরে রাখা এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের মতো নতুন চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক মত ও পথের মানুষকে একটি প্ল্যাটফর্মে আনার মধ্য দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই বিএনপিকে প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেন জিয়াউর রহমান। তবে ১৯৮১ সালের ৩০ মে তার নিহত হওয়ার পর দলটির নেতৃত্বে আসেন তার সহধর্মিণী খালেদা জিয়া।
১৯৮২ সালে বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন খালেদা জিয়া। ১৯৮৩ সালে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের ১০ মে কাউন্সিলের মাধ্যমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপাসন নির্বাচিত হন এবং মৃত্যু সময় পর্যন্ত প্রায় ৪২ বছর দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেছেন । বিএনপি চেয়ারপার্সনের দায়িত্বে থাকার পাশাপাশি তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন খালেদা জিয়া।
এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে তার নেতৃত্ব বিএনপিকে বড় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। ফলে, জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দলটি তার নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন, নির্বাচন ও সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করে।
২০০২ সালে স্থায়ী কমিটি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক পদে মনোনীত হয়ে তারেক রহমান ২০০৫ সালে দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলন আয়োজন করে দেশের প্রতিটি উপজেলা ইউনিটের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের সময় তিনি গ্রেপ্তার হয়ে বিদেশে চিকিৎসা নিতে নির্বাসিত হন। ২০০৯ সালে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে যখন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দি হন, তখন তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোনীত হন। ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি ১৭ বছর পর দেশে ফিরে ২০২৬ সালে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। এর মধ্য দিয়ে জিয়া পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায়ে আসে।
বিএনপির ৪৮ বছরের ইতিহাসকে মোটাদাগে তিনটি নেতৃত্ব পর্বে দেখা যায়— জিয়াউর রহমানের সময় দলটির প্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক ভিত্তি নির্মাণ, খালেদা জিয়ার সময়ে দলকে গণভিত্তিক ও নির্বাচনী শক্তিতে পরিণত করা এবং তারেক রহমানের সময়ে দীর্ঘ বিরোধী রাজনীতি পেরিয়ে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলকে পরিচালনা করা।
এখন সেই নেতৃত্বের সামনে ,বড় প্রশ্ন ক্ষমতায় এসে বিএনপি কতটা সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় কতটা সফল।
বিএনপির আরেকটি চ্যালেঞ্জ দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা নেতাদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের নেতাকর্মীরাও এখন দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তবে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ধরে রাখাও বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় যে জনসম্পৃক্ততা দলটির রাজনৈতিক শক্তির অন্যতম ভিত্তি ছিল, ক্ষমতায় যাওয়ার পর সেটি ধরে রাখাই বড় চ্যালেন্জ।
Reporter Name 












