2:09 am, Monday, 7 September 2026

রংপুরের পীরগাছায় ডিক্রি প্রাপ্ত ১ একর ৪৮ শতকে ঈদগাহ মাঠের সীমানা নির্ধারণ

  • Reporter Name
  • Update Time : 01:59:25 pm, Sunday, 6 September 2026
  • 42 Time View


পাটোয়ারী পীরগাছা রংপুর।। দীর্ঘ এক যুগের আইনি জটিলতা ও মালিকানা সংক্রান্ত বিভ্রান্তি কাটিয়ে রংপুরের পীরগাছায় অবশেষে কান্দি ইউনিয়নের দাদন পাচুলিয়া ঈদগাহ মাঠের ১ একর ৪৮ শতক জমির সীমানা নির্ধারণ সম্পন্ন হয়েছে। আদালতের ঘোষণামূলক ডিক্রির ভিত্তিতে পেশাদার আমিন দ্বারা জমি পরিমাপ শেষে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে এ সীমানা চিহ্নিত করা হয়। পরিমাপকালে স্থানীয় বাসিন্দা ও ঈদগাহ কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
​জমি সংক্রান্ত রেকর্ড ও আইনি ইতিহাস
ঈদগাহ কমিটির সদস্য আব্দুল মজিদ জানান, ব্রিটিশ আমলের রেকর্ডে জমিটি সতীশচন্দ্র ও সেবায় চন্দ্র রায়ের নামে ঈদগাহ মাঠ হিসেবেই উল্লেখ ছিল। পরবর্তীতে ১৯৪০ সালের সিএস রেকর্ডে জমিটি নসিরুদ্দিন নামে এক ব্যক্তির নামে চলে গেলে আইনি অস্পষ্টতা তৈরি হয়। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালের খতিয়ানে পুনরায় ১ একর ৪৮ শতক জমি ‘পাচুলিয়া ঈদগাহ মাঠ’-এর নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। বর্তমান আরএস রেকর্ডেও জমিটি ঈদগাহ মাঠের নামেই বহাল রয়েছে।
​জনমনে সৃষ্টি হওয়া দীর্ঘদিনের মালিকানা সংক্রান্ত বিভ্রান্তি দূর করতে ঈদগাহ কমিটির পক্ষ থেকে আদালতে ঘোষণামূলক ডিক্রির মামলা দায়ের করা হয়। ২০২৩ সালের ২২ মে পীরগাছা সহকারী জজ আদালত জমিটি ঈদগাহ মাঠের মালিকানায় থাকার পক্ষে ঐতিহাসিক আদেশ প্রদান করেন।
​দখলদারিত্ব ও মামলার রায়
ঈদগাহ কমিটির সূত্রে জানা যায়, ১ একর ৪৮ শতক জমির মধ্যে প্রায় ১ একর জমি স্থানীয় আবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তি দখলে রেখে ভোগ করছিলেন। সিএস রেকর্ডে তাঁর পিতার নাম থাকার অজুহাতে তিনি স্বত্ব দাবি করে সহকারী জজ আদালতে পৃথক একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আদালত আবুল হোসেনের দায়ের করা মামলাটি খারিজ করে দেন।
​অস্তান্তরযোগ্য সম্পত্তি ও বর্তমান অবস্থা
আদালতের চূড়ান্ত ডিক্রি অনুযায়ী, এই ১ একর ৪৮ শতক জমি সম্পূর্ণভাবে বিক্রি, বন্ধক, হস্তান্তর বা রদবদল অযোগ্য। জমিটি চিরতরে পাচুলিয়া ঈদগাহ মাঠের স্বার্থে সংরক্ষিত থাকবে এবং ঈদগাহ কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ দখল ও পরিচালনায় পরিচালিত হবে।
​জমি পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণকারী আমিন নাজমুল ইসলাম জানান, “১৯৬২ সালের প্রাপ্ত রেকর্ড এবং বর্তমান আরএস রেকর্ডের নকশা নিখুঁতভাবে অনুসরণ করে পরিমাপ সম্পন্ন করা হয়েছে। সীমানা নির্ধারণে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা বা বাধা আসেনি।”
​দীর্ঘ ১২ বছর পর ঈদগাহের জমি উদ্ধার ও সীমানা নির্ধারণ হওয়ায় আদালতের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন পাচুলিয়া ঈদগাহ মাঠের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান ও আব্দুল জলিল।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

‘মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক’ – ঠাকুরগাঁয়ে রাষ্ট্রপতি

রংপুরের পীরগাছায় ডিক্রি প্রাপ্ত ১ একর ৪৮ শতকে ঈদগাহ মাঠের সীমানা নির্ধারণ

Update Time : 01:59:25 pm, Sunday, 6 September 2026


পাটোয়ারী পীরগাছা রংপুর।। দীর্ঘ এক যুগের আইনি জটিলতা ও মালিকানা সংক্রান্ত বিভ্রান্তি কাটিয়ে রংপুরের পীরগাছায় অবশেষে কান্দি ইউনিয়নের দাদন পাচুলিয়া ঈদগাহ মাঠের ১ একর ৪৮ শতক জমির সীমানা নির্ধারণ সম্পন্ন হয়েছে। আদালতের ঘোষণামূলক ডিক্রির ভিত্তিতে পেশাদার আমিন দ্বারা জমি পরিমাপ শেষে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে এ সীমানা চিহ্নিত করা হয়। পরিমাপকালে স্থানীয় বাসিন্দা ও ঈদগাহ কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
​জমি সংক্রান্ত রেকর্ড ও আইনি ইতিহাস
ঈদগাহ কমিটির সদস্য আব্দুল মজিদ জানান, ব্রিটিশ আমলের রেকর্ডে জমিটি সতীশচন্দ্র ও সেবায় চন্দ্র রায়ের নামে ঈদগাহ মাঠ হিসেবেই উল্লেখ ছিল। পরবর্তীতে ১৯৪০ সালের সিএস রেকর্ডে জমিটি নসিরুদ্দিন নামে এক ব্যক্তির নামে চলে গেলে আইনি অস্পষ্টতা তৈরি হয়। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালের খতিয়ানে পুনরায় ১ একর ৪৮ শতক জমি ‘পাচুলিয়া ঈদগাহ মাঠ’-এর নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। বর্তমান আরএস রেকর্ডেও জমিটি ঈদগাহ মাঠের নামেই বহাল রয়েছে।
​জনমনে সৃষ্টি হওয়া দীর্ঘদিনের মালিকানা সংক্রান্ত বিভ্রান্তি দূর করতে ঈদগাহ কমিটির পক্ষ থেকে আদালতে ঘোষণামূলক ডিক্রির মামলা দায়ের করা হয়। ২০২৩ সালের ২২ মে পীরগাছা সহকারী জজ আদালত জমিটি ঈদগাহ মাঠের মালিকানায় থাকার পক্ষে ঐতিহাসিক আদেশ প্রদান করেন।
​দখলদারিত্ব ও মামলার রায়
ঈদগাহ কমিটির সূত্রে জানা যায়, ১ একর ৪৮ শতক জমির মধ্যে প্রায় ১ একর জমি স্থানীয় আবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তি দখলে রেখে ভোগ করছিলেন। সিএস রেকর্ডে তাঁর পিতার নাম থাকার অজুহাতে তিনি স্বত্ব দাবি করে সহকারী জজ আদালতে পৃথক একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আদালত আবুল হোসেনের দায়ের করা মামলাটি খারিজ করে দেন।
​অস্তান্তরযোগ্য সম্পত্তি ও বর্তমান অবস্থা
আদালতের চূড়ান্ত ডিক্রি অনুযায়ী, এই ১ একর ৪৮ শতক জমি সম্পূর্ণভাবে বিক্রি, বন্ধক, হস্তান্তর বা রদবদল অযোগ্য। জমিটি চিরতরে পাচুলিয়া ঈদগাহ মাঠের স্বার্থে সংরক্ষিত থাকবে এবং ঈদগাহ কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ দখল ও পরিচালনায় পরিচালিত হবে।
​জমি পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণকারী আমিন নাজমুল ইসলাম জানান, “১৯৬২ সালের প্রাপ্ত রেকর্ড এবং বর্তমান আরএস রেকর্ডের নকশা নিখুঁতভাবে অনুসরণ করে পরিমাপ সম্পন্ন করা হয়েছে। সীমানা নির্ধারণে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা বা বাধা আসেনি।”
​দীর্ঘ ১২ বছর পর ঈদগাহের জমি উদ্ধার ও সীমানা নির্ধারণ হওয়ায় আদালতের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন পাচুলিয়া ঈদগাহ মাঠের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান ও আব্দুল জলিল।