আশরাফ খান কিরণ রংপুর।। শোষণের বদলে কৃষকদের কপাল পোড়া ‘নীল’ এখন এই অঞ্চলে সম্ভাবনার উঁকি দিচ্ছে। পতিত জমি, জমির আইল, অনাবাদী জমিতে নীল চাষে এখন খুলছে কৃষকের ভাগ্য। মাত্র ৮০ দিনেই ঘরে ঢুকছে কাড়ি কাড়ি টাকা। ঘরের জ্বালানির চাহিদা মিটিয়ে আবাদি জমির জৈবসারের চাহিদাও মিটছে। বিভিন্ন সড়কের পাশের খালি জায়গাতেও নীল চাষ হচ্ছে। মার্চ মাসের মাঝামাঝি নীলের বীজ বুনতে হয়। ধঞ্চেগাছের মতো এই গাছে তেমন যত্নের প্রয়োজন নেই। ৮০-৯০ দিনের মধ্যে পাতা কাটার উপযোগী হয়। তিনবার গাছ থেকে পাতা কাটা হয়। সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বীজ সংগ্রহের জন্য গাছগুলো জমিতেই থাকে।জমিদারদের অত্যাচারে কৃষক বিদ্রোহের কারণে ১৮৫৯-১৮৬০ সালের দিকে এই নীলচাষ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলেও বংশ পরস্পরা ‘মালগাছ’ হিসেবে পরিচিত ছিল এই নীল। তবে, রংপুরের তরুণ উদ্যোক্তা নিখিল রায়ের হাত ধরে ২০০৫ সাল থেকে রংপুর সদর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর ও গঙ্গাচড়া উপজেলার পাগলাপীরের হরকলি ঠাকুরপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় চাষ শুরু হয়। ২০০৭ সালে শুরু হয় বাণিজ্যিকভাবে। বর্তমানে রংপুর ও নীলফামারীর বেশ কয়েকটি এলাকায় ব্যাপকভাবে এই নীল চাষ করছেন চাষিরা। গড়ে উঠেছে নীল ‘কারখানা’।
প্রায় আড়াইশ বছর আগে নীলকরদের সীমাহীন শোষণ, বঞ্চনা, অত্যাচার ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে রংপুর অঞ্চলে কৃষকরা ‘নীল বিদ্রোহ’ করলেও মুছে যাচ্ছে সেই নীলচাষের গল্প। উদ্যোক্তারা বলছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের যে ক্যানেলগুলো আছে সেগুলোসহ সরকারের বিভিন্ন পতিত জমি আছে যেগুলোতে নীল চাষের জন্য লিজ দিলে বছরে অন্তত ২০০ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব এই নীল থেকে। উৎপাদিত প্রাকৃতিক এ নীল রপ্তানি হচ্ছে বিশ্বের অনেক দেশে। ২০০৭ সালে রংপুর সদরের হরকলিতে একটি কারখানা তৈরি হয়েছে। সেখানেই তারা নীলের পাতা কেজিতে পাঁচ টাকা দরে বিক্রি করেন। ইন্ডিগো ফিড লি. পরিচালক ও উদ্যোক্তা নিখিল রায় বলেন, রংপুর অঞ্চলে মাটির যে উবর্রতা এই মাটিতে নীল চাষে ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ দিচ্ছি। এই নীল অর্থকরী ফসল বা দামি ফসল। কৃষকেরা নীল চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আমরা এ বছর ২০০ একরের বেশি জমি লিজ নিয়ে চাষ করেছি। তিনি বলেন, গার্মেন্টস শিল্পে যে কিং অব কালার সেটা এই নীল থেকে নেওয়া হয়। সারাবিশ্বে নীলের চাহিদা আছে। বাংলাদেশে এটা খুব ভালো মানের হয়। পাতা থেকে নীল তৈরির পর গ্রেড-এ, গ্রেড-বি, গ্রেড-সি মানের আলাদা করি।
প্রাকৃতিক কালারের জন্য ফ্যাক্টরির মালিকরা আমাদের কাছে এটা কিনে। প্রতি বছর চাহিদা ৪ টন, বাহিরে থেকে অর্ডার আসলে ৫ টনের প্রয়োজন হয়।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৫সালে রংপুর সদর ও তারাগঞ্জ ও গঙ্গাচড়া উপজেলার ১০টি গ্রামে ১০ হেক্টর ও নীলফামারী উপজেলার কিশোরগঞ্জে ১২ হেক্টর জমিতে এই নীল চাষ করেছেন ৪১২ জন কৃষক। তবে চলতি বছরের তালিকা নেই কৃষি বিভাগের কাছে। সরেজমিনে রংপুর সদরের গঞ্জিপুর, খলেয়া ও চন্দনপাঠ এলাকায় বিস্তীর্ণ পতিত জমি, জমির আইল ও অনাবাদী জমিতে এই নীল চাষ করতে দেখা গেছে চাষিদের।
Reporter Name 
















