11:24 am, Friday, 21 August 2026

ঢাকায় ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় রংপুরে ৪ পুলিশ প্রত্যাহার

  • Reporter Name
  • Update Time : 02:58:37 pm, Monday, 10 August 2026
  • 34 Time View

এম এ হোসেন পাটোয়ারী পীরগাছা (রংপুর) উপজেলা প্রতিনিধি।। ঢাকায় সাভার থানা ছাত্রদলের নেতা মনোয়ারুল ইসলাম বকশীর (৩০) মৃত্যুর ঘটনায় রংপুরের পীরগাছা থানার ৪ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে রংপুর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। গত ৮ আগস্ট শনিবার রাতে তাদের সংযুক্ত করা হয়।মৃতের স্বজনরা বলছে অভিযান চলাকালে পুলিশমনোয়ারুলকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করেছে। অন্যদিকে অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ বলছে , তারা নিচতালায় ছিল । ছাদ থেকে কিছু একটা নিচে পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা মনোয়ারুল ইসলাম বকশীকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন- পীরগাছা থানার এসআই কনক রঞ্জন বর্মন, এএসআই ওসমান আলী, কনস্টেবল প্রশান্ত কুমার ও সুমী আক্তার। সাভার মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, পীরগাছা থানাকে সহযোগিতা করতে এসআই আব্দুল হাইসহ দুইজন কনস্টেবল সেখানে গিয়েছিলেন। বিষয়টি তদন্তাধীন। পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, এ ঘটনায় ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযানে অংশ নেওয়া পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্যকে রংপুর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য গত ২৩ জুলাই রংপুরের পীরগাছার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রামের শফিকুল ইসলাম মিন্টুর মেয়ে মিমি আক্তার (১৫) নিখোঁজ হওয়ায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির সূত্র ধরে পীরগাছা থানার এসআই কনক রঞ্জন বর্মনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মিমির অবস্থান শনাক্ত করে। এবং ৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাতে সাভারের লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) স্টাফ কোয়ার্টারে অভিযান চালায়। মৃতের স্বজনদের দাবি, ছাত্রদল নেতা মৃত মনোয়ারুলের ভাগিনা শাহরিয়ার কবির সৌমিকের সঙ্গে মিমির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের জেরে তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে সাভারে সৌমিকের নানার বাড়িতে অবস্থান করছিল। অভিযানের একপর্যায়ে মনোয়ারুলকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। অভিযানে জিডির বাদী শফিকুল ইসলাম মিন্টু ও তার শ্যালক পুলিশের পোশাকে পুলিশের সঙ্গে ছিলেন বলেও দাবি করেন তারা। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা। মৃত মনোয়ারুল ইসলাম বকশী গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতিবান্ধা গ্রামের জাফর বকশীর ছেলে। বাবার চাকরির সূত্রে তিনি সাভারের বিপিএটিসি কোয়ার্টারে বসবাস করতেন এবং সাভার থানা ছাত্রদলের সহ সভাপতি ছিলেন। এদিকে এ ঘটনায় ৮ আগস্ট শনিবার সকালে নিহতের স্বজন, এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা পীরগাছা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রংপুরে বায়োজিনের ২২তম শাখার উদ্বোধন

ঢাকায় ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় রংপুরে ৪ পুলিশ প্রত্যাহার

Update Time : 02:58:37 pm, Monday, 10 August 2026

এম এ হোসেন পাটোয়ারী পীরগাছা (রংপুর) উপজেলা প্রতিনিধি।। ঢাকায় সাভার থানা ছাত্রদলের নেতা মনোয়ারুল ইসলাম বকশীর (৩০) মৃত্যুর ঘটনায় রংপুরের পীরগাছা থানার ৪ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে রংপুর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। গত ৮ আগস্ট শনিবার রাতে তাদের সংযুক্ত করা হয়।মৃতের স্বজনরা বলছে অভিযান চলাকালে পুলিশমনোয়ারুলকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করেছে। অন্যদিকে অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ বলছে , তারা নিচতালায় ছিল । ছাদ থেকে কিছু একটা নিচে পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা মনোয়ারুল ইসলাম বকশীকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন- পীরগাছা থানার এসআই কনক রঞ্জন বর্মন, এএসআই ওসমান আলী, কনস্টেবল প্রশান্ত কুমার ও সুমী আক্তার। সাভার মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, পীরগাছা থানাকে সহযোগিতা করতে এসআই আব্দুল হাইসহ দুইজন কনস্টেবল সেখানে গিয়েছিলেন। বিষয়টি তদন্তাধীন। পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, এ ঘটনায় ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযানে অংশ নেওয়া পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্যকে রংপুর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য গত ২৩ জুলাই রংপুরের পীরগাছার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রামের শফিকুল ইসলাম মিন্টুর মেয়ে মিমি আক্তার (১৫) নিখোঁজ হওয়ায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির সূত্র ধরে পীরগাছা থানার এসআই কনক রঞ্জন বর্মনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মিমির অবস্থান শনাক্ত করে। এবং ৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাতে সাভারের লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) স্টাফ কোয়ার্টারে অভিযান চালায়। মৃতের স্বজনদের দাবি, ছাত্রদল নেতা মৃত মনোয়ারুলের ভাগিনা শাহরিয়ার কবির সৌমিকের সঙ্গে মিমির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের জেরে তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে সাভারে সৌমিকের নানার বাড়িতে অবস্থান করছিল। অভিযানের একপর্যায়ে মনোয়ারুলকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। অভিযানে জিডির বাদী শফিকুল ইসলাম মিন্টু ও তার শ্যালক পুলিশের পোশাকে পুলিশের সঙ্গে ছিলেন বলেও দাবি করেন তারা। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা। মৃত মনোয়ারুল ইসলাম বকশী গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতিবান্ধা গ্রামের জাফর বকশীর ছেলে। বাবার চাকরির সূত্রে তিনি সাভারের বিপিএটিসি কোয়ার্টারে বসবাস করতেন এবং সাভার থানা ছাত্রদলের সহ সভাপতি ছিলেন। এদিকে এ ঘটনায় ৮ আগস্ট শনিবার সকালে নিহতের স্বজন, এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা পীরগাছা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন।