সামাজিক কার্যক্রমে রংপুর মিতালী সংঘের ৫২ বছর।। মুষ্টির চালে চলে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়
আশরাফ খান কিরণ।। ৭৪ এর দুর্ভিক্ষে মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে রংপুরে ১১ তরুণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার প্রতিচ্ছবি মিতালী সংঘ।
একই বছরের ২৯ নভেম্বর সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে (রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৭৬/৭৪) স্বীকৃতি পেয়ে এই প্রতিষ্ঠানের সকলের কাজের দায়িত্বশীলতা আজ ৫২ বছরে উন্নীত করেছে।
সময়ের চাহিদায় মিতালী গ্রন্থাগার, মিতালী ললিতকলা একাডেমী,মিতালী হ্যান্ডি ক্রাফটস্,মিতালী ব্লাড ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে মিতালী গ্রুপ আত্মপ্রকাশ করেছে।
৬৭ জন সাধারণ সদস্য ও ১০ জন উপদেষ্টা এর আর্থিক সহযোগিতায় পরিচিত হয়ে আসছে সংগঠনের কার্যক্রম।
স্বেচ্ছাসেবী, ক্রীড়া, সাহিত্য ও সংস্কৃতিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ছেলে মেয়েদের সংবাদপত্র ও বই পড়া কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সাপ্তাহিক পাঠচক্র, সাহিত্য আসর ও ৬৫৬৭ টি বইয়ের সম্ভার নিয়ে চলছে মিতালী গ্রন্থাগার। মৃত ব্যক্তিকে দাফনে বিনা মূল্যে কাফনের কাপড় প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবছর ২০ জন শিক্ষার্থীর বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম প্রদান,শিক্ষা সামগ্রী প্রদান, প্রতিবছর ২০ জন নিম্ন আয়ের মানুষকে ব্লাড প্রেসার মেশিন, ডাইবেটিক মেশিন ঔষধ প্রদান, ৫১ জন অসুস্থ ব্যক্তিকে বডি টু বডি রক্তদান কার্যক্রম সংগঠনকে আরো দায়িত্বশীল করে তুলেছে।
পাশাপাশি ২০১৪ সালে দিনাজপুরে পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নে ৩০ শতক জায়গার উপরে প্রতিষ্ঠিত হয় মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক মডেল বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক মো: মিরাজ ই মোস্তফা ৩২ জন উচ্চ শিক্ষিত ছেলে মেয়েকে স্বেচ্ছাসেবী কাজে উদ্বুদ্ধ করে বিদ্যালয়ের পথ চলা শুরু করেন।
মুষ্টির চালে ১২ বছর ধরে চলছে এই মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক মডেল বিদ্যালয়।
বিভিন্ন বয়সের ২১০ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান,চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। শিক্ষক ও কর্মচারী ৩২ জনের স্বতঃস্ফূর্ত স্বেচ্ছাসেবার প্রতিফলন ঘটেছে এই বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে।
শিক্ষক কর্মচারী ৩২ জন সহ এলাকার মোট ৭১ টি পরিবার তিন বেলা খাবার রান্নার আগে এক মুষ্টি করে চাল মাটির হাঁড়িতে রেখে সমাজের অনুগ্রসর শিক্ষার্থীকে সমাজের মূল স্রোতধারায় নিয়ে তাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এই মুষ্টির চালে রবি থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে খাওয়ানো হয় ডাল ভাত কখনো বা খিচুড়ি। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২ টা ৪ ঘন্টার এই শিক্ষা কার্যক্রমে,নকশি কাঁথা, সেলাই, সবজি চাষ, ছাগল, ভেড়া, হাঁস মুরগি পালন সহ শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীল হতে এই বিদ্যালয় বিশেষ ভূমিকা রাখছে।বিনা পারিশ্রমিকে ৩২ জন শিক্ষক কর্মচারী স্বপ্ন দেখছে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ। ইতিমধ্যে এই সামাজিক কার্যক্রম অবহিত হতে নেদারল্যান্ডের এটি প্রতিনিধি দল ভিজিট করেছেন এই বিদ্যালয়। স্বপ্ন দেখিয়েছেন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ছেলেমেয়েদের আত্মনির্ভরশীল হতে। দিনাজপুর এর পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের শালবাড়ি আটরাই গ্রামে অবস্থিত ৩০ শতক জায়গায় এই মডেল বিদ্যালয়টি ৭টি কক্ষে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। খেলার মাঠে ছেলেমেয়েরা তাদের শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনে নিবেদিত থাকেন প্রতিদিন। গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দেখেছে বিশেষ স্বাক্ষর। ছবি আঁকা প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয়টির মিলেছে একাধিক জাতীয় পুরস্কার।
Reporter Name 










